বশিরুল আলম, আলমডাঙ্গা(চুয়াডাঙ্গা) থেকেঃ চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার ঘোষবিলা স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসায় সহকারী মৌলভী শিক্ষক মহাসিন আলমের ওপর হামলা এবং মাদ্রাসার ভেতরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনজনকে অভিযুক্ত করে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ক্লাস চলাকালে তিনজন ব্যক্তি মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে প্রধান শিক্ষক মোঃ মনিরুল ইসলামকে খুঁজতে থাকে। প্রধান শিক্ষক ওই সময় জরুরি কাজে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে অবস্থান করছিলেন—এ তথ্য জানালে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে সহকারী শিক্ষক মহাসিন আলমের ওপর চড়াও হন। অভিযোগকারী শিক্ষক মহাসিন আলম জানান, বিবাদী মোঃ স্বপন আলী (৫০), মোঃ দুলাল আলী (৪৫) ও মোঃ সাখাওয়াত (২৫) প্রথমে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং পরে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারতে থাকেন। তিনি বলেন, “আমি শুধু জানালাম—প্রধান শিক্ষক অফিসে আছেন। কথাটি শোনার পরই তারা আমার কলার ধরে টেনে বাইরে নেওয়ার চেষ্টা করে।” হামলার সময় মাদ্রাসার জেনারেল শিক্ষক মোছাঃ তানিয়া সুলতানা, প্রক্সি শিক্ষক মোছাঃ খুরশিদা এবং স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ খন্দকার ঠান্ডুসহ আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তাদের হস্তক্ষেপে বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়। পরে বিষয়টি মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটি ও স্থানীয় শিক্ষক সমাজ আলোচনা করে। সর্বশেষ ভুক্তভোগী শিক্ষক মহাসিন আলম ঘটনাটি লিখিত অভিযোগ আকারে আলমডাঙ্গা প্রেস ক্লাবে উপস্থাপন করেন এবং আইনি সহায়তা কামনা করে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেন। স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ও অভিভাবকরা বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে শিক্ষককে মারধর এবং বাহিরের লোকদের অনধিকার প্রবেশ অশুভ সংকেত। তাদের দাবি, “এ ধরনের ঘটনা মাদ্রাসার নিরাপত্তা ও শিক্ষার্থীদের মানসিক সুরক্ষার জন্য হুমকিস্বরূপ। দ্রুত তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।” ঘটনা সম্পর্কে আলমডাঙ্গা থানা বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগ পাওয়ার পর স্থানীয় মহলে বিষয়টি তদন্তের দাবি উঠেছে।