বশিরুল আলম, আলমডাঙ্গা (চুয়াডাঙ্গা) থেকেঃ কৃষিনির্ভর আলমডাঙ্গা উপজেলার এরশাদপুর এলাকার কৃষকদের স্বপ্ন ছিল একটি কার্যকর সেচ ক্যানেল। সেই স্বপ্ন পূরণের নাম করে সরকারি অর্থ বরাদ্দ হলেও বাস্তবে নির্মাণকাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা। কাগজে-কলমে শতভাগ কাজ সম্পন্ন দেখানো হলেও মাঠপর্যায়ে সেচ ক্যানেলটি এখন দুর্ভোগের আরেক নাম।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, সেচ ক্যানেল নির্মাণে ব্যবহৃত হয়নি নির্ধারিত মানের নির্মাণসামগ্রী। কোথাও স্ল্যাবের পুরুত্ব কম, কোথাও ইটের গাঁথুনি দুর্বল, আবার অনেক স্থানে প্লাস্টার খসে পড়ছে। নির্মাণের কয়েক মাস না যেতেই ক্যানেলের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে।
এরশাদপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল কাদের বলেন,
“এই ক্যানেল যদি ঠিকমতো হতো, তাহলে আমাদের জমিতে নিয়মিত পানি পেতাম। কিন্তু এখন তো ক্যানেল আছে নামেই।”
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত পুরো অর্থ উত্তোলন করা হলেও কাজ হয়েছে তার অর্ধেকেরও কম। ক্যানেলের নির্ধারিত দৈর্ঘ্য ও গভীরতা বজায় রাখা হয়নি। অনেক জায়গায় মাটি ভরাট করে দায়সারা কাজ শেষ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান তামান্না এন্টারপ্রাইজ এর মালিক হুমায়ুন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশেই এই অনিয়ম সংঘটিত হচ্ছে।
এই সেচ ক্যানেলের ওপর নির্ভরশীল ছিল কয়েক শ’ বিঘা জমি। কিন্তু ক্যানেল কার্যকর না হওয়ায় কৃষকদের বিকল্পভাবে গভীর নলকূপ বা ব্যক্তিগত পাম্পের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে বেড়েছে উৎপাদন খরচ, কমেছে লাভ।
কৃষক রহিম উদ্দিন জানান,
“আগে ভাবছিলাম খরচ কমবে। এখন উল্টো বেশি টাকা খরচ করেও ঠিকমতো পানি পাচ্ছি না।”
স্থানীয়দের পক্ষ থেকে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে ক্ষোভ বাড়ছে এলাকাবাসীর মধ্যে।
সচেতন মহলের দাবি, অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় আনা হোক এবং সেচ ক্যানেলটি নতুন করে মানসম্মতভাবে নির্মাণ করা হোক।
এরশাদপুর সেচ ক্যানেলের এই চিত্র আলমডাঙ্গা উপজেলার উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর তদারকির বাস্তব অবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। উন্নয়নের নামে যদি এভাবে লুটপাট চলতে থাকে, তবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে কৃষি ও কৃষক—যার প্রভাব পড়বে পুরো অঞ্চলের অর্থনীতিতে।
এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগ আমলে নিয়ে ব্যবস্থা নেয় কি না, নাকি এরশাদপুরের কৃষকদের স্বপ্ন আবারও ফাইলের পাতায় চাপা পড়ে থাকে।


