ঢাকাশনিবার , ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন আদালত
  5. আইন ও পরামর্শ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আবহাওয়া
  8. ইসলাম
  9. কর্পোরেট
  10. কৃষি
  11. ক্যাম্পাস
  12. ক্রিকেট
  13. খুলনা
  14. খেলাধুলা
  15. চট্টগ্রাম
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চুয়াডাঙ্গা জেলা মডেল মসজিদে অব্যবস্থাপনা ৩০ সিসিটিভি অকার্যকর, ৯ লাখ টাকার বিদ্যুৎ বিল বকেয়া; নিরাপত্তাহীনতায় বাড়ছে চুরি

dailydesherkhabor
ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬ ৫:২৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বশিরুল আলম, চুয়াডাঙ্গা থেকে: সরকারি অর্থায়নে নির্মিত চুয়াডাঙ্গা জেলা মডেল মসজিদে অব্যবস্থাপনার চিত্র দিন দিন প্রকট হচ্ছে। প্রায় ১৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন এ স্থাপনাটি উদ্বোধনের কয়েক বছরের মধ্যেই অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি, নিরাপত্তাহীনতা, বিদ্যুৎ বিল বকেয়া এবং নিয়মিত চুরির ঘটনায় প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

সিসিটিভি অকার্যকর, নেই নিরাপত্তা প্রহরী

মসজিদ সূত্রে জানা গেছে, স্থাপিত ৩০টি সিসিটিভি ক্যামেরাই বর্তমানে অকার্যকর। দীর্ঘদিন ধরে ক্যামেরাগুলো নষ্ট থাকায় মসজিদের সার্বিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে অজুখানা ও বাথরুমের বিভিন্ন ট্যাপসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম চুরির ঘটনা ঘটেছে একাধিকবার।

পরবর্তীতে ইসলামিক ফাউন্ডেশন নিজস্ব অর্থায়নে চারটি নতুন ক্যামেরা স্থাপন করলেও তা পুরো ভবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য পর্যাপ্ত নয়। বর্তমানে মসজিদে কোনো নিরাপত্তা প্রহরীও নেই, ফলে রাতের বেলায় চুরি ও ভাঙচুরের আশঙ্কা আরও বাড়ছে।

৯ লাখ টাকার বিদ্যুৎ বিল বকেয়া

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ বিল বাবদ প্রায় ৯ লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে। উদ্বোধনের পর এক দফায় মাত্র ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। দ্রুত বকেয়া পরিশোধ না হলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা নিয়মিত নামাজ ও ধর্মীয় কার্যক্রম ব্যাহত করতে পারে।

পাঁচ বছরেই ভাঙছে অবকাঠামো

২০২১ সালের ১৭ জুন কাজ সম্পন্ন হওয়া এই মসজিদটিতে পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই বিভিন্ন স্থানে অবকাঠামোগত সমস্যা দেখা দিয়েছে। দেয়ালের টাইলস খুলে পড়ছে, অজুখানার পানির পাইপ লিকেজ হয়ে দেয়ালের রং ও আস্তর খসে পড়ছে। একাধিক স্থানে টাইলস ভেঙে গেছে, যা মুসল্লিদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।

অপরিচ্ছন্ন বাথরুম, সামনে ময়লার স্তুপ

একাধিক মুসল্লি অভিযোগ করেন, দুইজন খাদেম থাকলেও বাথরুমগুলো প্রায়ই অপরিষ্কার থাকে। অধিকাংশ ট্যাপ চুরি হয়ে যাওয়ায় অজু ও ব্যবহারজনিত ভোগান্তি বাড়ছে।

মুয়াজ্জিন মো. মনজুর রহমান বলেন, “বাথরুমের বেশিরভাগ ট্যাপ চুরি হয়ে গেছে। নিরাপত্তা প্রহরী না থাকায় জিনিসপত্র রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। কিছু পাইপ লাইন নিজ অর্থায়নে মেরামত করেছি।”

এছাড়া মসজিদের সামনের অংশে পৌরসভার ময়লা ফেলা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে, যা পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি মুসল্লিদের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দায়িত্ব নিয়ে টানাপোড়েন

মসজিদটি ইসলামিক ফাউন্ডেশন-এর তত্ত্বাবধানে থাকলেও দায়িত্ব হস্তান্তর নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে ভিন্নমত দেখা গেছে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক এ কে এম শাহীন কবীর বলেন, মসজিদটি গণপূর্ত বিভাগের তত্ত্বাবধানে নির্মিত হলেও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে দায়ভার পুরোপুরি বুঝে পাওয়া হয়নি। বরাদ্দ এলে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা হবে।

অন্যদিকে গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মহসিন জানান, ২০২২ সালে উদ্বোধনের পর ২০২৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে মসজিদটি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এটি ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প হওয়ায় রক্ষণাবেক্ষণের জন্য গণপূর্ত বিভাগ পৃথক বাজেট পায় না। হস্তান্তরের এক বছর পূর্ব পর্যন্ত তারা মেরামত ব্যয় বহন করেছেন।

মুসল্লিদের দাবি

স্থানীয় মুসল্লিরা দ্রুত সব সিসিটিভি সচল করা, অবকাঠামোগত সংস্কার, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা এবং মসজিদের সামনে ময়লা ফেলা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

সরকারি অর্থায়নে নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থাপনায় এমন অব্যবস্থাপনা স্থানীয়দের মাঝে হতাশা সৃষ্টি করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপে মসজিদটির সুষ্ঠু রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত হবে—এমন প্রত্যাশাই এখন সবার।