বশিরুল আলম, আলমডাঙ্গা (চুয়াডাঙ্গা) থেকে: কাগজ, কালি ও মুদ্রণসংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় উপকরণের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে স্থানীয় সংবাদপত্র প্রকাশ প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে। ব্যয় বেড়েছে কয়েক গুণ, অথচ সেই অনুপাতে বাড়েনি পত্রিকার মূল্য। ফলে চুয়াডাঙ্গার স্থানীয় সংবাদপত্রগুলো টিকে থাকার লড়াইয়ে পড়েছে কঠিন চাপে। এই বাস্তবতায় পত্রিকা প্রকাশের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে করণীয় নির্ধারণে জরুরি সভায় মিলিত হয় চুয়াডাঙ্গা সংবাদপত্র সম্পাদক পরিষদ।
খাসখবর পত্রিকার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় উপকরণের মূল্যবৃদ্ধি, পরিবহন খরচ বৃদ্ধি এবং সার্বিক অর্থনৈতিক সংকটের প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সম্পাদকরা জানান, মাত্র পাঁচ বছরের ব্যবধানে সংবাদপত্র প্রকাশের উপযোগী কাগজের দাম কয়েক গুণ বেড়েছে। যে কাগজ একসময় সাড়ে তিনশ’ টাকা রিম ছিল, বর্তমানে তা ৭শ’ টাকায় পৌঁছেছে। একইভাবে কালি, প্লেট (পেলেট) ও অন্যান্য উপকরণের দামও আকাশছোঁয়া। পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
সভায় বক্তারা বলেন, সার্বিক ব্যয় বৃদ্ধি সত্ত্বেও পাঠকের স্বার্থ বিবেচনায় স্থানীয় পত্রিকার মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়নি। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে টিকে থাকতে বাস্তবভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। পাঠককূলের মতামত নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়েও মতৈক্য প্রকাশ করা হয়।
সভায় পূর্বের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে পাঁচ সদস্যের একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। এতে দৈনিক মাথাভাঙ্গা-এর সম্পাদক সরদার আল আমিনকে আহ্বায়ক এবং দৈনিক খাসখবর-এর প্রধান সম্পাদক রাজীব হাসান কচিকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।
কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন—
দৈনিক পশ্চিমাঞ্চল-এর সম্পাদক আজাদ মালিতা
দৈনিক সময়ের সমীকরণ-এর প্রধান সম্পাদক নাজমুল হক স্বপন
দৈনিক আজকের চুয়াডাঙ্গা-এর সম্পাদক বিপুল আশরাফ
প্রসঙ্গত, পরিষদ প্রতিষ্ঠাকালে গঠিত কমিটিতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আজাদ মালিতা এবং সাধারণ সম্পাদক ছিলেন সরদার আল আমিন।
সভায় উপস্থিত সম্পাদকরা আশা প্রকাশ করেন, নতুন আহ্বায়ক কমিটি সংকট উত্তরণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবে এবং ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় চুয়াডাঙ্গার স্থানীয় সংবাদপত্রের ধারাবাহিকতা ও মান অটুট রাখবে।


