বশিরুল আলম, আলমডাঙ্গা (চুয়াডাঙ্গা) থেকে: চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানাধীন কুড়ুলগাছি ইউনিয়নের চাকুলিয়া গ্রামে দীর্ঘদিনের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ অবশেষে রূপ নিয়েছে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে পিতা নুর ইসলাম (৬৫) ও তার ছেলে সাইদুর রহমান (৩৩) সহ অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। এ সময় কয়েকটি ঘরবাড়ি ভাঙচুরের পাশাপাশি তিনটি মোটরসাইকেলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পিতা–পুত্রের মধ্যে বিরোধ চলছিল। শুক্রবার দুপুরে সেই বিরোধ চরম আকার ধারণ করে। অভিযোগ রয়েছে, সাইদুর রহমানের শ্বশুরকূলের কয়েকজন সদস্য মোটরসাইকেলে করে বহিরাগত ৭–৮ জনকে সঙ্গে নিয়ে গ্রামে প্রবেশ করেন এবং নুর ইসলামের ওপর হামলা চালান।
ঘটনার আকস্মিকতায় পুরো গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নারী ও শিশুরা ঘরবন্দি হয়ে পড়েন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলার সময় দরজা-জানালা ভাঙচুর করা হয় এবং ঘরের আসবাবপত্র ব্যাপকভাবে নষ্ট করা হয়।
হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় গ্রামবাসী দ্রুত জড়ো হয়ে হামলাকারীদের ধাওয়া করেন। পরে চারজনকে আটক করে গণপিটুনি দেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে তাদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়। আহতদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত দর্শনা থানা–র উপ-পরিদর্শক (এএসআই) নজরুল ইসলাম বলেন, “পিতা–পুত্রের দীর্ঘদিনের কলহ ও বাকবিতণ্ডার জেরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে শ্বশুরপক্ষের লোকজন এসে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তোলে। স্থানীয়রা তাদের আটক করে গণপিটুনি দেয়।”
এ বিষয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) হিমেল রানা জানান, এখনো কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সংঘর্ষের পর চাকুলিয়া গ্রামে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উভয় পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। গ্রামবাসীর দাবি, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের সহিংসতার আশঙ্কা রয়েছে। এ ঘটনা আবারও প্রমাণ করল—পারিবারিক জমি বিরোধ যখন সামাজিক দ্বন্দ্বে রূপ নেয়, তখন তার প্রভাব পড়ে পুরো জনপদে। সচেতন মহল মনে করছে, এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসন ও স্থানীয় নেতৃত্বের সমন্বিত উদ্যোগ


