ঢাকাশনিবার , ১৮ এপ্রিল ২০২৬
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন আদালত
  5. আইন ও পরামর্শ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আবহাওয়া
  8. ইসলাম
  9. কর্পোরেট
  10. কৃষি
  11. ক্যাম্পাস
  12. ক্রিকেট
  13. খুলনা
  14. খেলাধুলা
  15. চট্টগ্রাম
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চুয়াডাঙ্গায় ইসলামের প্রাচীন পদচিহ্ন: খাইরুল বাশার ওমর শাহ (রহ.)-এর ইতিহাস

dailydesherkhabor
এপ্রিল ১৮, ২০২৬ ৭:৪২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

বশিরুল আলম, স্টাফ রিপোর্টারঃ বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা চুয়াডাঙ্গা—আজ যেখানে শত শত মসজিদ, মাদরাসা এবং অসংখ্য আলেম-উলামার বসবাস, সেই ভূখণ্ডে ইসলামের সূচনা হয়েছিল বহু শতাব্দী আগে। ইতিহাসের পাতা ঘাঁটলে জানা যায়, এই অঞ্চলে ইসলামের প্রথম আলোকবর্তিকা প্রজ্বলন করেছিলেন মহান সুফি সাধক হজরত খাইরুল বাশার ওমর শাহ (রহ.)।ঐতিহাসিকদের মতে, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর যুগেই ভারত উপমহাদেশে ইসলামের আগমন ঘটে। আরব বণিকরা নৌপথে বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে এ অঞ্চলে আসতেন। ব্যবসার পাশাপাশি তারা ইসলামের দাওয়াতও দিতেন। ফলে ধীরে ধীরে এই অঞ্চলে ইসলামের বিস্তার শুরু হয়।

পরবর্তীতে বিভিন্ন সুফি সাধক ও পির-আওলিয়াদের মাধ্যমে ইসলাম আরও সুদৃঢ় ভিত্তি লাভ করে। তাদেরই ধারাবাহিকতায় চুয়াডাঙ্গা অঞ্চলে আগমন ঘটে খাইরুল বাশার ওমর শাহ (রহ.)-এর। ধারণা করা হয়, তিনি ছিলেন এ অঞ্চলের প্রথম ইসলাম প্রচারক। তিনি আলমডাঙ্গার ঘোলদাড়ি গ্রামে ভাটুই নদীর তীরে আস্তানা গড়ে তোলেন এবং সেখান থেকেই ইসলামের দাওয়াত শুরু করেন। তিনি সেখানে একটি মসজিদ নির্মাণ করেন, যা বর্তমানে ঘোলদাড়ি শাহী মসজিদ নামে পরিচিত। এটি বৃহত্তর কুষ্টিয়া অঞ্চলের প্রাচীনতম মসজিদ হিসেবে বিবেচিত। আজও ঐতিহ্যের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এই মসজিদে নিয়মিত নামাজ আদায় করা হয়। তিন গম্বুজ বিশিষ্ট এই মসজিদটি মুঘল স্থাপত্যরীতির এক অনন্য উদাহরণ। প্রায় ৪০×১০ আয়তনের এই স্থাপনায় চার কোণে ছোট মিনার, চুন-সুরকির গাঁথুনি, ক্ষুদ্র ঢালি ইটের ব্যবহার এবং মেহরাবে কারুকার্যময় নকশা দেখা যায়। একাধিকবার সংস্কারের ফলে বর্তমান রূপ পেলেও এর প্রাচীনত্ব এখনও স্পষ্ট।

জনশ্রুতি অনুযায়ী, সে সময়ের গৌড়ের রাজা লক্ষ্মণসেন মুসলমানদের উপস্থিতিতে আতঙ্কিত হয়ে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেন। তিনি মুসলমানদের বিরুদ্ধে সৈন্য প্রেরণ করলে ওমর শাহ (রহ.)-এর সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে তিনি বিজয়ী হলেও তার অনেক সাথী শহীদ হন।

শাহী মসজিদের পাশেই তাদের কবর আজও ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে রয়েছে। তার নাম ‘ওমর’ না ‘ওমজ’—এ নিয়ে কিছু বিতর্ক থাকলেও অধিকাংশ গবেষকের মতে ‘ওমর’ নামটিই সঠিক। ধারণা করা হয়, প্রাচীন শিলালিপির পাঠোদ্ধারে ভুলের কারণে ‘ওমজ’ নামটি প্রচলিত হয়েছে।‘খাইরুল বাশার’ তার উপাধি, যার অর্থ ‘শ্রেষ্ঠ মানব’—যা তার ব্যক্তিত্ব ও কর্মের সঙ্গে যথার্থভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ। বাংলায় ইসলাম প্রচারে প্রাথমিক পর্যায়ের উল্লেখযোগ্য সাধকদের মধ্যে রয়েছেন—

বায়েজিদ বোস্তামি

শাহ সুলতান মাহি সওয়ার

শাহ সুলতান রুমি

বাবা আদম শহীদ

হজরত ওমর শাহ (রহ.) তাদের সমসাময়িক ছিলেন বলে ধারণা করা হয়, যা তার ঐতিহাসিক গুরুত্বকে আরও সুদৃঢ় করে। খাইরুল বাশার ওমর শাহ (রহ.) ছিলেন সহজ-সরল জীবনযাপনে অভ্যস্ত, মানবপ্রেমী ও সুন্নাহপন্থি ইসলাম প্রচারক। তিনি তার কবর পাকা না করার নির্দেশ দিয়েছিলেন, ফলে আজও তার কবরটি সাধারণভাবে সংরক্ষিত রয়েছে। দুঃখজনক হলেও সত্য, এত বড় অবদান থাকা সত্ত্বেও তিনি আজও অনেকটাই বিস্মৃত। শাহী মসজিদের চত্বরে তার কবর থাকলেও অনেক দর্শনার্থী তা চিনতে পারেন না। আজ চুয়াডাঙ্গা জেলায় মুসলমানের হার প্রায় ৯৮ শতাংশ। অসংখ্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও আলেম-উলামার এই জনপদের সূচনা হয়েছিল তার হাত ধরেই। তার জ্বালানো ইসলামের আলো অল্প সময়েই চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। ইতিহাসের পাতায় হয়তো তিনি ততটা আলোচিত নন, কিন্তু তার অবদান অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। নিভৃতে, নিরবে তিনি যে আলোর প্রদীপ জ্বালিয়েছিলেন, তা আজও প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে পথ দেখিয়ে যাচ্ছে।