ঢাকাবুধবার , ১৫ অক্টোবর ২০২৫
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন আদালত
  5. আইন ও পরামর্শ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আবহাওয়া
  8. ইসলাম
  9. কর্পোরেট
  10. কৃষি
  11. ক্যাম্পাস
  12. ক্রিকেট
  13. খুলনা
  14. খেলাধুলা
  15. চট্টগ্রাম
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিলে ভাসছে ভাগ্য, হাঁসের খামারে ঘোষবিলার রমজান আলীর সাফল্যের গল্প

dailydesherkhabor
অক্টোবর ১৫, ২০২৫ ৯:৩৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

বশিরুল আলম, আলমডাঙ্গা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধিঃ চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার ঘোষবিলা গ্রামের সাধারণ কৃষক রমজান আলী আজ স্থানীয় কৃষকদের জন্য অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে উঠেছেন। একসময় কৃষিকাজের পাশাপাশি জীবিকার বিকল্প খুঁজতে ইউটিউবে হাঁস পালন সম্পর্কিত ভিডিও দেখতেন তিনি। সেখান থেকেই শুরু হয় তার স্বপ্নযাত্রা—২০০ হাঁস দিয়ে শুরু করা ছোট্ট একটি খামার আজ পরিণত হয়েছে ১৮ হাজার হাঁসের বিশাল খামারে।

প্রতিদিন প্রাকৃতিক বিলে হাঁস চারণ করিয়ে রমজান আলী সংগ্রহ করছেন গড়ে ৩ হাজার ডিম, যার বাজারমূল্য লাখ টাকারও বেশি। প্রাকৃতিক সম্পদকে কাজে লাগিয়ে এভাবেই তিনি গড়ে তুলেছেন নিজের ভাগ্য এবং কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত।

ঘোষবিলা গ্রামের পাশের বিশাল প্রাকৃতিক বিলটিই এই খামারের প্রাণ। প্রতিদিন সকালে হাঁসগুলোকে বিলে ছেড়ে দেওয়া হয়— সারাদিন তারা সেখানেই শৈবাল, পোকামাকড় ও অন্যান্য প্রাকৃতিক খাদ্য খেয়ে বড় হয়। এতে করে খাবারের খরচ অনেকটাই কমে যায়, আর হাঁসগুলো বেড়ে ওঠে স্বাস্থ্যকরভাবে। সন্ধ্যায় হাঁসগুলো খামারে ফেরে, তখনই শুরু হয় ডিম সংগ্রহের ব্যস্ততা।

রমজান আলী বলেন, “আমি কখনো ভাবিনি এই খামার এত বড় হবে। শুরুতে ২০০ হাঁস ছিল, আজ তা ১৮ হাজারে পৌঁছেছে। ধৈর্য আর পরিশ্রমই আমার মূল পুঁজি।”

রমজান আলীর খামার ঘিরে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে গ্রামের অন্তত ১৫ জন নারী-পুরুষের জন্য। ডিম সংগ্রহ, পরিষ্কার, প্যাকেটজাত ও বাজারজাতকরণে প্রতিদিন ব্যস্ত থাকেন স্থানীয় শ্রমিকরা। এতে শুধু একটি পরিবার নয়, বদলে যাচ্ছে পুরো এলাকার অর্থনৈতিক চিত্র।

একজন স্থানীয় নারী শ্রমিক বলেন, “আগে বাড়িতে বসে থাকতাম। এখন খামারে কাজ করে নিজের আয় দিয়ে সংসারে সাহায্য করতে পারছি।”

রমজান আলীর সাফল্যের কথা এখন ছড়িয়ে পড়েছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। প্রতিদিনই তার খামার পরিদর্শনে আসছেন তরুণ উদ্যোক্তারা। তারা জানতে চান কীভাবে প্রাকৃতিক সম্পদকে কাজে লাগিয়ে খরচ কমিয়ে লাভজনক হাঁসের খামার গড়ে তোলা যায়।

রমজান আলীর ভাষায়, “ইচ্ছাশক্তি আর ধৈর্য থাকলে গ্রামেও সফল হওয়া সম্ভব। বিল বা প্রাকৃতিক জলাশয়কে কাজে লাগিয়ে গ্রামীণ মানুষ নিজেরাই গড়ে তুলতে পারে নিজেদের ভবিষ্যৎ।”

রমজান আলীর স্বপ্ন এখানেই থেমে নেই। তিনি খামারের পরিধি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছেন। সরকারি বা বেসরকারি সহায়তা পেলে তিনি বড় পরিসরে হাঁসের খামার শিল্প গড়ে তুলতে চান, যাতে আরও অনেক বেকার তরুণের কর্মসংস্থান হয়।

একসময় ইউটিউব ভিডিও দেখে শুরু করা পথ আজ সফলতার দৃষ্টান্ত। ঘোষবিলার এই সাধারণ কৃষকের গল্প এখন গ্রামের গণ্ডি পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়ছে চারদিকে। প্রাকৃতিক বিলে হাঁস চারণ আর ডিমের ঝুড়িতে জমে উঠছে এক স্বপ্নের ভবিষ্যৎ— যার নাম সাফল্য। এই সাফল্যের গল্প বলছে— সুযোগ সবখানেই আছে, শুধু প্রয়োজন স্বপ্ন দেখার সাহস আর এগিয়ে যাওয়ার ইচ্ছাশক্তি।