ঢাকারবিবার , ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন আদালত
  5. আইন ও পরামর্শ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আবহাওয়া
  8. ইসলাম
  9. কর্পোরেট
  10. কৃষি
  11. ক্যাম্পাস
  12. ক্রিকেট
  13. খুলনা
  14. খেলাধুলা
  15. চট্টগ্রাম
আজকের সর্বশেষ সবখবর

অফিস সহায়কই কি কোনাবাড়ি ভূমি অফিসের ‘অঘোষিত নিয়ন্ত্রক’? 

কাজী মোঃ আব্দুল মান্নান
সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ৪:১৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

অফিস সহায়কই কি কোনাবাড়ি ভূমি অফিসের ‘অঘোষিত নিয়ন্ত্রক’? 

দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থেকে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ, তদন্তের দাবি

গাজীপুর প্রতিনিধি : গাজীপুর মহানগরের কোনাবাড়ি ভূমি অফিসে একজন অফিস সহায়কের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থেকে অফিসের বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার, নামজারি বা খারিজের কাজে অনৈতিক সুবিধা আদায় এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর অফিস সহায়ক মোঃ ফিরোজ আলম সরকার-এর দিকে, অভিযোগ রয়েছে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান রিনা পারভীনের সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্ককে ব্যবহার করে ভূমি অফিসের বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন তিনি।

স্থানীয় ও কয়েকজন সেবা প্রত্যাশীর অভিযোগ, পদে অফিস সহায়ক হলেও দীর্ঘ সাড়ে চার বছর একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের সুযোগে অফিসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে তার প্রভাব তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে নামজারি ও খারিজ সংক্রান্ত কাজে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে নানা ধরনের হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।

মহানগরীর কোনাবাড়ি একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল হওয়ায় এ এলাকায় জমি ও সম্পত্তি সংক্রান্ত কার্যক্রমও তুলনামূলক বেশি। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একটি চক্র নামজারি ও খারিজের কাজে অনৈতিক সুবিধা আদায় করছে—এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।

কয়েকজন ভুক্তভোগীর দাবি, একটি নামজারি বা খারিজের কাজ সম্পন্ন করতে বিভিন্ন অজুহাতে ১০ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করা হয়। জমির কাগজপত্রে কোনো জটিলতা থাকলে দাবিকৃত অর্থের পরিমাণ আরও বাড়ে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা। তবে এসব অভিযোগের সুনির্দিষ্ট সত্যতা এবং আর্থিক লেনদেনের কোনো তথ্য রয়েছে কি না—তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

শুধু নামজারি বা খারিজ নয়, বিরোধপূর্ণ কিংবা নালিশি সম্পত্তির সরেজমিন তদন্ত নিয়েও রয়েছে নানান অভিযোগ। অভিযোগকারীদের দাবি, সরেজমিন তদন্তের ক্ষেত্রেও প্রভাব বিস্তার এবং অনৈতিক সুবিধা চাওয়ার ঘটনা ঘটে থাকে। এ অবস্থায় স্থানীয়দের প্রশ্ন—একজন অফিস সহায়ক কীভাবে দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থেকে ভূমি অফিসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে এতটা প্রভাব বিস্তার করতে পারেন?

তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন একই জায়গায় দায়িত্ব পালনের ফলে স্থানীয় বিভিন্ন ব্যক্তি ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। আর সেই সম্পর্কের কারণেই অফিসের কার্যক্রমে এক ধরনের প্রভাব বলয় তৈরি হয়েছে বলে দাবি তাদের।

সম্প্রতি কোনাবাড়ি ভূমি অফিসে ভারপ্রাপ্ত ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা হিসেবে রুবেল হাওলাদার যোগদান করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, নতুন কর্মকর্তার ওপরও প্রভাব বিস্তার করে অফিসের বিভিন্ন কাজে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং দাপ্তরিকভাবে কী ধরনের ভূমিকা রয়েছে—তা যাচাই করাও জরুরি।

অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ: অফিস সহায়ক মোঃ ফিরোজ আলম সরকারের বিরুদ্ধে গাজীপুর শহরের দক্ষিণ ছায়াবীথি, মাড়িয়ালী ও লক্ষীপুরাসহ বিভিন্ন এলাকায় নামে-বেনামে সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন।

অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ভূমি অফিসে দায়িত্ব পালনের সুযোগে তিনি বিপুল অর্থ-সম্পদের মালিক হয়েছেন। তবে এসব সম্পদের প্রকৃত মালিকানা, উৎস ও আয়-ব্যয়ের সঙ্গে সম্পদের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না—এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার মাধ্যমে যাচাই প্রয়োজন।

দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন, নামজারি ও খারিজের কাজে অর্থ দাবির অভিযোগ, সরেজমিন তদন্তে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ এবং কথিত অবৈধ সম্পদ অর্জন—সব অভিযোগেরই নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ও সেবা প্রত্যাশীরা। তাদের দাবি, কোনাবাড়ি ভূমি অফিসে সাধারণ মানুষ যাতে দালাল বা কোনো কর্মচারীর প্রভাব ছাড়াই সরাসরি সরকারি সেবা পান, তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় বিধি ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।