ঢাকাবৃহস্পতিবার , ১৬ অক্টোবর ২০২৫
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন আদালত
  5. আইন ও পরামর্শ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আবহাওয়া
  8. ইসলাম
  9. কর্পোরেট
  10. কৃষি
  11. ক্যাম্পাস
  12. ক্রিকেট
  13. খুলনা
  14. খেলাধুলা
  15. চট্টগ্রাম
আজকের সর্বশেষ সবখবর

যশোর বোর্ডে পাসের হার কমলেও আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজে আশার আলো, বোর্ডে পাসের হার ৫০.২০% — আলমডাঙ্গায় ৫৮.৮৮%, ৩৬ জন শিক্ষার্থীর জিপিএ–৫

dailydesherkhabor
অক্টোবর ১৬, ২০২৫ ৫:২০ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

বশিরুল আলম, আলমডাঙ্গা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধিঃ –এর অধীনে অনুষ্ঠিত এইচএসসি ২০২৫ পরীক্ষার ফলাফলে সার্বিকভাবে পাসের হার কমলেও আশার আলো দেখিয়েছে । বোর্ডের গড় পাসের হার যেখানে মাত্র ৫০.২০ শতাংশ, সেখানে আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫৮.৮৮ শতাংশ— যা শিক্ষার্থীদের সাফল্য, শিক্ষকদের আন্তরিকতা এবং প্রতিষ্ঠানটির একাডেমিক মানের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

এইচএসসি পরীক্ষার এ বছর যশোর বোর্ডে প্রতি ১০০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে গড়ে ৫০ জন ফেল করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফেল করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৯০ শতাংশই ইংরেজি বিষয়ে অকৃতকার্য। এটি শিক্ষার্থীদের ইংরেজি বিষয়ে দুর্বল প্রস্তুতি ও বিষয়টির প্রতি অনীহার প্রতিফলন বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদরা।

এই হতাশাজনক পরিস্থিতির মধ্যেও আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজ একটি উজ্জ্বল ব্যতিক্রম তৈরি করেছে। প্রতিষ্ঠানটির ৭১৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬৮১ জন পরীক্ষায় অংশ নেয় এবং এর মধ্যে ৪০১ জন পাস করেছে। শুধু তাই নয়— ৩৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ–৫ অর্জন করে কলেজের সুনাম আরও উজ্জ্বল করেছে।

ফল প্রকাশের পর কলেজ প্রাঙ্গণে তৈরি হয় আবেগঘন পরিবেশ। কেউ হাসছে, কেউ আবার কান্নায় ভেঙে পড়ছে। উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মুখে ছিল সাফল্যের উচ্ছ্বাস, আর অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের চোখে ফুটে উঠেছে অনুশোচনার ছাপ। এদিন কলেজ ক্যাম্পাসে অভিভাবক, শিক্ষক ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরাও উপস্থিত ছিলেন সবাই একসঙ্গে এই সাফল্যের আনন্দ ভাগ করে নেন।

কলেজের অধ্যক্ষ ড. মোঃ মফিজুর রহমান বলেন, “এই ফল আমাদের সম্মিলিত পরিশ্রম ও পরিকল্পনার ফসল। আমরা চাই আগামী বছর এই ফল আরও ভালো হোক। বিশেষ করে ইংরেজি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা দূর করতে আমরা বিশেষ উদ্যোগ নিচ্ছি। নিয়মিত ক্লাস, অতিরিক্ত কোচিং এবং মডেল টেস্টের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আরও দক্ষ করে তোলা হবে।” তিনি আরও জানান, কলেজের শিক্ষকরা নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি নিশ্চিত করা, টেস্ট পরীক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত দুর্বলতা চিহ্নিত করে সহযোগিতা করার ওপর জোর দিয়েছেন।

শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইংরেজি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের ভয় ও অমনোযোগী মনোভাব পাসের হারে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখনই যদি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে ভবিষ্যতে পাসের হার আরও কমে যেতে পারে। তাই তারা বলছেন,

ইংরেজি বিষয়ের ওপর বিশেষ একাডেমিক পরিকল্পনা গ্রহণ, শিক্ষকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ ও আধুনিক পদ্ধতিতে পাঠদান, শিক্ষার্থীদের জন্য রুটিনমাফিক অনুশীলন ও মূল্যায়ন জরুরি। আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজ দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার শীর্ষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে সুনাম ধরে রেখেছে। প্রতিবছর এখানকার অসংখ্য শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষায় ভর্তির মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে কৃতিত্ব দেখায়। কলেজের সাবেক শিক্ষার্থীদের অনেকে বর্তমানে দেশের বিভিন্ন খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত। এই ঐতিহ্য ধরে রাখার পাশাপাশি নতুন ইতিহাস গড়ার প্রত্যয়ে এগিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

শিক্ষক, অভিভাবক ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা আশা করছেন— আগামী বছর আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজ শুধু পাসের হারেই নয়, জিপিএ–৫ এর সংখ্যাতেও নতুন রেকর্ড গড়বে। কলেজের পক্ষ থেকেও ইতিমধ্যেই ইংরেজি বিষয়ে বিশেষ ক্লাস, নিয়মিত মূল্যায়ন পরীক্ষা এবং মনিটরিং কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সবাই মনে করছেন, শিক্ষার্থী–শিক্ষক–অভিভাবকের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই কলেজ একদিন শতভাগ পাসের নজির স্থাপন করবে এবং আলমডাঙ্গার শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।