ঢাকাবুধবার , ১৯ নভেম্বর ২০২৫
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন আদালত
  5. আইন ও পরামর্শ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আবহাওয়া
  8. ইসলাম
  9. কর্পোরেট
  10. কৃষি
  11. ক্যাম্পাস
  12. ক্রিকেট
  13. খুলনা
  14. খেলাধুলা
  15. চট্টগ্রাম
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আলমডাঙ্গা রথতলার জোড়াকোঠা: বিস্মৃত ঐতিহ্যের নীরব সাক্ষ্য

dailydesherkhabor
নভেম্বর ১৯, ২০২৫ ১০:৪২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বশিরুল আলম, আলমডাঙ্গা (চুয়াডাঙ্গা) আলমডাঙ্গা শহরের কেন্দ্রস্থলে দাঁড়িয়ে আছে রথতলার বিখ্যাত জোড়াকোঠা—একটি স্থাপত্য নিদর্শন, যা শুধু ইট-কাঠের দালান নয়; বরং প্রায় শতবর্ষের এক জৌলুসময় ইতিহাসের নীরব সাক্ষী। একসময় যা ছিল প্রভাবশালী পাডিয়া পরিবারের বাসস্থান, আজ তা জরাজীর্ণ ও পরিত্যক্ত অবস্থায় এলাকার মানুষের মনে বিষাদের সঞ্চার করে। ইতিহাস অনুসন্ধানে জানা যায়, দিল্লীর নিকটস্থ প্লানি শহর থেকে তনসুক পাডিয়া ও চুনিলাল পাডিয়া নামের দুই ভাই ভাগ্যান্বেষণে পাবনা জেলার বেড়া শহরে পাটের ব্যবসা শুরু করেছিলেন। সেখানে সফলতা না পেয়ে তারা ১৯২০ সালের দিকে আলমডাঙ্গায় আসেন এবং শহরের প্রাণকেন্দ্রে রথতলায় গড়ে তোলেন এই জোড়াকোঠা। চুনিলাল পাডিয়া ছিলেন অত্যন্ত সফল ও ধনাঢ্য ব্যবসায়ী। তিনটি বিবাহ করেও তাঁর কোনো পুত্রসন্তান না থাকায় তিনি প্রহ্লাদ পাডিয়াকে দত্তক নেন। চুনিলাল বাবুর মৃত্যুর পর বিপুল সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হন প্রহ্লাদ পাডিয়া। রথতলার পথে বামে অবস্থিত বিশাল এই দোতলা জোড়াদালান ছিল প্রহ্লাদ পাডিয়ার বসতভিটা। এলাকাজুড়ে প্রচলিত লোককথায় জানা যায়, তিনি একসময় তাঁর জোড়া দালানের মাঝখানে একটি ঝুলন্ত বারান্দা নির্মাণ করতে চেয়েছিলেন। তৎকালীন প্রভাবশালী জমিদার ঘোড়ায় চড়ে চলাচলের অসুবিধার কথা বলে এতে বাধা দেন। কিন্তু প্রহ্লাদ পাডিয়া সেই বাধা মানেননি। নিজের ক্ষমতা ও প্রভাবের জোরে তিনি ঝুলন্ত বারান্দা নির্মাণ করেই ছাড়েন। ঘটনাটি সে সময়ের আলমডাঙ্গায় তাঁর আধিপত্য ও সাহসিকতার পরিচয় বহন করে। ৭ পুত্র ও ৪ কন্যার জনক প্রহ্লাদ পাডিয়ার মৃত্যুর পরও পাডিয়া পরিবারের ব্যবসায়িক বিস্তার থেমে যায়নি। তাঁর উত্তরসুরিরা বর্তমানে ভারতের কলকাতা, দিল্লী, মুম্বাই ও চেন্নাইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরে বিয়ারিং ফ্যাক্টরির ব্যবসা পরিচালনা করছেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে প্রভাবশালী এই পরিবারটি নিরাপত্তাজনিত কারণে দেশত্যাগে বাধ্য হয়। তাঁরা প্রথমে ভারতের কৃষ্ণনগরে আত্মীয় হরিভগবান পাডিয়ার নিকট আশ্রয় নেন। স্বাধীনতার পর স্বল্প সময়ের জন্য বাংলাদেশে ফিরে এলেও স্থায়ী হতে পারেননি। ১৯৭৬ সালে ৫৭ বছর বয়সে মৃত্যুর আগে প্রহ্লাদ পাডিয়া ব্যবসা ও মিল পরিচালনার ভার পুরুষোত্তম পাডিয়া ও রাজারাম পাডিয়ার হাতে তুলে দিয়ে সপরিবারে ভারতে ফিরে যান। সমৃদ্ধশালী ইতিহাস বুকে ধারণ করে থাকা এই জোড়াদোতলা দালানটি আজ সম্পূর্ণ পরিত্যক্ত। বিন্দুমাত্র রক্ষণাবেক্ষণ বা সংস্কার না থাকায় এটি ভেঙে পড়ার উপক্রম। পাশ দিয়ে হাঁটার সময়ও পথচারীদের মনে আতঙ্ক কাজ করে—যেকোনো সময় দালানটি ধসে পড়তে পারে। স্থানীয় ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অমূল্য সম্পদ এই জোড়াকোঠা। দীর্ঘদিন অবহেলায় পড়ে থাকা আলমডাঙ্গার এই স্থাপত্যটিকে সংরক্ষণ ও সংস্কারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত উদ্যোগ প্রয়োজন। ঐতিহ্যকে রক্ষা করা শুধু স্থাপনা বাঁচানো নয়—এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তাদের অতীত, শেকড় ও সাংস্কৃতিক পরিচয় জানার সুযোগ করে দেওয়া।