বশিরুল আলম, আলমডাঙ্গা (চুয়াডাঙ্গা) থেকে: বিশ্ব শিশু দিবসকে কেন্দ্র করে চুয়াডাঙ্গা জুড়ে শিশুদের জন্য নানা আয়োজন হলেও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ রাখলো সংযোগ ফাউন্ডেশন। গতকাল চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় অনুষ্ঠিত হলো এক উচ্ছ্বাসমুখর চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা—‘রঙিন শৈশব–২০২৫’। অংশ নেন প্রায় ৩০ জন শিশু, যাদের অধিকাংশই নিয়মিত শিক্ষা ও বিনোদনমূলক আয়োজন থেকে দূরে থাকে। শুরুতেই শিশু অধিকার নিয়ে হয় সংক্ষিপ্ত আলোচনা। শিশুদের স্বপ্ন, নিরাপত্তা, সুযোগ ও সৃজনশীলতার গুরুত্ব তুলে ধরেন আয়োজকরা। এরপরই রঙ-তুলি হাতে ক্ষুদে শিল্পীদের প্রাণচাঞ্চল্য ভরিয়ে দেয় চারপাশ। আঁকার বিষয় ছিল বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা—যা শিশুদের মনে দেশপ্রেম ও পরিচয়ের বীজ বুনে দেয়। চিত্রাঙ্কন শেষে সকল অংশগ্রহণকারীকে শুভেচ্ছা উপহার এবং বিজয়ীদের বিশেষ পুরস্কার তুলে দেন সংযোগ ভলেন্টিয়ার্স বাংলাদেশ–ই-এর স্বেচ্ছাসেবীরা। উৎসবমুখর পরিবেশে উপস্থিত ছিলেন সংযোগ ভলেন্টিয়ার্স বাংলাদেশ–ন্যাশনাল কাউন্সিল ২০২৫-এর টেকনিক্যাল কো-অর্ডিনেটর মো. মুশফিকুর রহমান এবং সংযোগ ভলেন্টিয়ার্স বাংলাদেশ চুয়াডাঙ্গা জেলার সদস্য মইন আশরাফ অনিক, জুনাইদুর রহমান নাহিদ, সুমন সরদার, জাহিদ নাভেদসহ অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবী। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে তারা দায়িত্ব পালন করেন স্বতঃস্ফূর্তভাবে। টেকনিক্যাল কো-অর্ডিনেটর মো. মুশফিকুর রহমান বলেন— “সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা সাধারণত এমন সৃজনশীল আয়োজনের সুযোগ পায় না। আজ তাদের চোখের হাসি আর আনন্দ দেখতেই আমাদের এই আয়োজন। এটিই আমাদের সবচেয়ে বড় সফলতা।” স্থানীয় এলাকাবাসীও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। অনেক অভিভাবক মনে করেন, এমন আয়োজন শিশুদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস, উৎসাহ ও ইতিবাচক মানসিকতার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশ্ব শিশু দিবসে চুয়াডাঙ্গার এই ক্ষুদ্র আয়োজন যেন সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য বড় এক উৎসব হয়ে উঠেছিল—রঙিন তুলি আর স্বপ্নভরা চোখে আঁকা ছিল তাদের নিজস্ব স্বাধীনতার গল্প।


