বশিরুল আলম, আলমডাঙ্গা (চুয়াডাঙ্গা) থেকেঃ চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার প্রতাপপুর গ্রামে সাম্প্রতিক সময়ে ছড়িয়ে পড়া একটি ‘আপত্তিকর ভিডিও’কে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ও অস্থিরতা বিরাজ করছে। তবে ভিডিওর আড়ালে লুকিয়ে থাকা ঘটনা অনুসন্ধান করতে গিয়ে উঠে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য—সাংবাদিকদের অনুসন্ধানে ভিডিওটি পরিকল্পিতভাবে ধারণ, ব্ল্যাকমেইল ও চাঁদা আদায়ের অপকৌশলের অভিযোগ। ভুক্তভোগী গৃহবধূ জানান, দীর্ঘদিন ধরে তার ফুপাতো দেবর নাজিম অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। তিনি প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় পরিকল্পিতভাবে ভাসুরপুত্রকে জোরপূর্বক তার ঘরে ঢুকিয়ে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করা হয়। গৃহবধূর দাবি— “আমি সম্পূর্ণ নির্দোষ। ওরা পরিকল্পিতভাবে ফাঁদে ফেলে ভিডিও ধারণ করেছে। পরে ভিডিও দেখিয়ে ২০ হাজার টাকা নিয়েছে। ”অভিযোগ আরও রয়েছে—প্রথম দফায় টাকা নেয়ার পর আবারও টাকা দাবি করা হয়। প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় নাজিম ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। মুহূর্তের মধ্যেই ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে পড়লে ওই গৃহবধূ মারাত্মক মানসিক, সামাজিক ও পারিবারিক সংকটে পড়েন।অভিযুক্ত নাজিমের মোবাইলে ফোন করে সাংবাদিকরা বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি সরাসরি কোনো মন্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি শুধু বলেন— “এ বিষয়ে আমার মামা রফিক কথা বলবে।”পরদিন রফিকের সঙ্গে দেখা করতে গেলে তিনিও বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে জানান— “এটা গ্রামের সালিশে মীমাংসা হবে। নিউজ করার দরকার নাই।”ভিডিওতে থাকা ভাসুরপুত্র ইমনের বাড়িতে গিয়ে সাংবাদিকরা জানতে পারেন, প্রথমে ইমনের বাবা মানিক দাবি করেন—ছেলে বাড়িতে নেই। তবে পরে স্বীকার করেন, “নাজিম ভিডিওর কথা বলে আমাদের কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা নিয়েছে।”গ্রামবাসীর মতে, ইমনের পরিবার বখাটেদের ভয়ে পুরো ঘটনা প্রকাশ্যে বলতে সাহস পাচ্ছেন না। স্থানীয় লোকজন জানান, প্রতাপপুরে কিছু যুবক ফেসবুকে ভুয়া আইডি খুলে মানুষের নামে বাজে মন্তব্য করছে, মানহানিকর পোস্ট দিচ্ছে। এতে গ্রামবাসী আতঙ্ক ও অনিরাপত্তায় দিন কাটাচ্ছেন। অনেকে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে পর্যন্ত ভয় পাচ্ছেন। অভিযোগ পাওয়া গেছে, ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাওয়া একজন স্থানীয় সাংবাদিকের বিরুদ্ধেও একটি ফেক আইডি (নাম: ‘ইব্রাহীম’) ব্যবহার করে মানহানিকর স্ট্যাটাস দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন— “ঘটনা তদন্ত করতে গেলেই কি সাংবাদিক দোষী?” আপত্তিকর ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে প্রতাপপুরে স্বাভাবিক পরিবেশ ভেঙে পড়েছে। নারী নির্যাতন, ব্ল্যাকমেইল ও ডিজিটাল নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।গ্রামের সাধারণ মানুষের দাবি— “সঠিক তদন্ত করে দায়ীদের গ্রেপ্তার করা হোক। ভুক্তভোগী পরিবারকে দেওয়া হোক নিরাপত্তা।” সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার এখন গ্রামাঞ্চলেও নতুন আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। প্রতাপপুরের ঘটনাটি সেই চিত্র স্পষ্ট করে। স্থানীয়রা মনে করছেন— ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রয়োগ, ব্ল্যাকমেইলার ও ভিডিও ছড়ানোদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা,ফেক আইডি নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার, সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা— এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।


