বশিরুল আলম, আলমডাঙ্গা, চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের মারধরে ৮ জন কোমলমতি শিক্ষার্থী আহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাটি গতকাল উপজেলার বাড়াদি ইউনিয়নের অনুপনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলাকালে একটি তেলাপোকা শিক্ষার্থীদের শরীরে পড়ে গেলে তারা আতঙ্কে চিৎকার করে ওঠে। তুচ্ছ এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রধান শিক্ষক ক্ষিপ্ত হয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হন এবং বেধড়ক মারধর করেন। এতে অন্তত ৮ জন শিক্ষার্থী আহত হয়। অভিযোগ রয়েছে, মারধরের পর শিক্ষার্থীদের কিছু সময় বিদ্যালয়ের ভেতরে আটকে রেখে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়, যাতে তারা বাড়িতে বিষয়টি প্রকাশ না করে। পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে অভিভাবকরা এসে তাদের উদ্ধার করে আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। ঘটনার পর থেকে অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেখানে শিশুদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় হওয়ার কথা, সেখানে এ ধরনের অমানবিক আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। দ্রুত অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল কুদ্দুস (পিতা: নবুর আলী), ভোগাইল বগাদী গ্রামের বাসিন্দা। ঘটনার পর থেকে তাকে পাওয়া যাচ্ছে না; তার ব্যবহৃত মুঠোফোনটিও বন্ধ রয়েছে।
এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা উপজেলা শিক্ষা অফিস জানায়, ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত টিম বিদ্যালয় পরিদর্শনে গেলেও অভিযুক্ত শিক্ষককে সেখানে পাওয়া যায়নি। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শিক্ষাঙ্গনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।


