বশিরুল আলম, স্টাফ রিপোর্টার, চুয়াডাঙ্গাঃ ‘শ্রমিক-মালিক এক হয়ে, গড়বো এদেশ নতুন করে’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গায় যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে মহান মে দিবস ও জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেফটি দিবস। দিবসটি উপলক্ষে শুক্রবার সকালে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সকাল সাড়ে ৯টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে র্যালি বের হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহীদ হাসান চত্বরে গিয়ে ঘুরে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়। র্যালিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শ্রমজীবী মানুষসহ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।র্যালি শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ডিসি সাহিত্য মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উপ-পরিচালক) শারমিন আক্তারের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশী এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোস্তাফিজুর রহমান। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম সাবুসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা। বাস, ট্রাক ও মাইক্রোবাস শ্রমিক, ইটভাটা শ্রমিক, নির্মাণ শ্রমিক, রেলওয়ে শ্রমিক এবং বিএডিসি শ্রমিকসহ নানা পেশার শ্রমিকরা শোভাযাত্রায় অংশ নেন।আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, মহান মে দিবস বিশ্বব্যাপী শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের স্বীকৃতিস্বরূপ একটি ঐতিহাসিক দিন। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং পেশাগত স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করতে সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।তিনি আরও বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি গুরুত্বের সঙ্গে পালন করা হচ্ছে, যা শ্রমিকদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।সভায় অন্যান্য বক্তারাও শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং শ্রমিকবান্ধব নীতিমালা বাস্তবায়নের দাবি জানান।দিবসটির কর্মসূচি শ্রমিকদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার মধ্য দিয়ে শেষ হয়।


